Friday, August 28, 2026
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
HomeCampusবন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবির নেপালি শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাকৃবির নেপালি শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বলন

Print Friendly, PDF & Email

বাকৃবি প্রতিনিধি : নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও ভূমিধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতদের স্মরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ডেস্কের উদ্যোগে মুক্তমঞ্চের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তারা ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন এবং নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এর মাধ্যমে তারা শোক ও সংহতি প্রকাশ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদ ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান সহ বিশ্বদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীরা। 

কর্মসূচিতে বাকৃবির কৃষি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জরুরি বলেন, আমরা আজ এখানে সবাই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সমবেত হয়েছি। নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে তাদের পরিবারের সদস্য, ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়েছেন। আমরা এখান থেকে হয়তো তাদের জন্য বড় কিছু করতে পারছি না। তবে অন্তত তাদের প্রতি আমাদের শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করতে চাই।

বাকৃবির আন্তর্জাতিক ডেস্কের পরিচালক এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, নেপালের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে আজকের এই কর্মসূচি। বাকৃবিতে শতাধিক নেপালি শিক্ষার্থী রয়েছেন, তারা আমাদের পরিবারেরই সদস্য। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও নেপালের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। আমরা বাকৃবি একটি পরিবার, উপাচার্যের নির্দেশনায় আমরা তাদের পাশে আছি সবসময়।

বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে সমব্যথী। বন্যায় ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশ সরকারও নেপালকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয় তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করি। শিক্ষার্থীদের বলব, যেকোনো ধরনের সহযোগিতা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে নিঃসংকোচে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি অংশ ধসে ভূমিধসের সঙ্গে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তীব্র স্রোতে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments