Friday, April 17, 2026
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
HomeCampusহাবিপ্রবিতে জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের পিএইচডি ডিফেন্স সম্পন্ন 

হাবিপ্রবিতে জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের পিএইচডি ডিফেন্স সম্পন্ন 

Print Friendly, PDF & Email

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের পিএইচডি ডিফেন্স সম্পন্ন হয়েছে। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কৃষি অনুষদের ভিআইপি কনফারেন্স রুমে বেলা ১১ টায় উক্ত ডিফেন্স শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্ল্যা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম সিকদার ও পোস্ট গ্রাজুয়েট অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.  মো. মামুনুর রশিদ। আরো উপস্থিত ছিলেন জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হাসানুজ্জামান, পিএইচডি পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, 

পিএইচডি প্রোগ্রামের সুপারভাইজার এবং জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আরিফুজ্জামান, কো-সুপারভাইজার হাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস সহ অন্যান্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

পিএইচডি শিক্ষার্থী সোহানা জুঁই (সহকারী অধ্যাপক, জিপিবি বিভাগ)  “সিলেকশন অব আর্লিনেস জেনোটাইপস বাই বায়োমেট্রিক্যাল এন্ড মলিকুলার টুলস ফর ফ্রন্টিয়ার ব্রিডিং টু ইম্প্রুভ  ফাইবার ইয়েল্ড ইন আপল্যান্ড কটন” টপিকের ওপর পিএইচডি ডিফেন্সে অংশ নিয়েছিলেন। 

বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড এবং হাবিপ্রবির জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের যৌথ উদ্যেগে উক্ত গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল তুলার নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য লাইন নিয়ে কাজ করা। সেখানে ১০০ টি লাইন নিয়ে কাজ করে ৫ টি উন্নত লাইন পাওয়া গিয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আগাম জাতের তুলার জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। আগাম জাতের তুলা উদ্ভাবন করা হলে কৃষকরা প্রায় ১ মাস আগেই মাঠ থেকে তুলা সংগ্রহ করতে পারবে এবং মাটির সঠিক ব্যবহার করে আরো অন্যান্য ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

হাবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্ল্যা বলেন, যিনি পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন তাকে ডিগ্রী সম্পন্ন করার জন্য দীর্ঘ চার বছর পরিশ্রম করতে হয়েছে। তিনি একদম মাঠে নিবিড় পর্বেক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ও ফলাফল লিপিবদ্ধ করে সে অনুযায়ী তার গবেষণার কাজ করেছেন। বাংলাদেশের জন্য তুলা একটি প্রয়োজনীয় ফসল।আমরা বেশি করে তুলা উৎপাদন করতে পারলে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে এটি বেশ ভালো ভূমিকা রাখবে। কৃষকরা যদি আগাম জাতের তুলা উৎপাদন করতে পারে তাহলে এটি আরো ভালো। তুলা উৎপাদন দীর্ঘ সময় লাগার ফলে কৃষকেরা নিরুৎসাহিত হয়। তবে কম সময় লাগলে কৃষকেরা তুলা উৎপাদনে আগ্রহী হবে, যা দেশের কৃষির জন্য ইতিবাচক। 

উক্ত গবেষণার সুপারভাইজার জেনেটিক্স এন্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের প্রফেসর ড.  মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে তুলা চাষাবাদের প্রধান অন্তরায় হলো ফসলের দীর্ঘ জীবনকাল। তুলা উৎপাদনে প্রায় ৬ মাস সময় লাগে। যদি কম সময়ে তুলা উৎপাদন করা যায় তাহলে দেশের কৃষিখাতে তুলা বেশ ভালো ভূমিকা রাখবে। এ গবেষণায় চাষাবাদকৃত তুলা জাতের চেয়েও অপেক্ষাকৃত কম জীবনকালের ৫ টি আগাম লাইন কৌলিতাত্বিক, আনবিক, অঙ্গসংস্থানিক এবং বায়োমেট্রিক্যাল টুল ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়েছে। আগামীতে এ লাইনগুলো তুলা উন্নয়ন বোর্ড এবং কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের যৌথ উদ্যেগে জাত হিসেবে কৃষকদের মাঝে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছি। এ লাইনগুলো প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ১ মাস অগ্রীম ফলন দিবে এবং বাংলাদেশের কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করবে। তিনি ডিফেন্স অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান ও তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অত্র গবেষণার কো-সুপারভাইজার অবসরপ্রাপ্ত  প্রফেসর ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে জাত উদ্ভাবনের জন্য ভিত্তি উপাদান প্রদানের লক্ষ্যে গবেষণাটি হয়েছে। আমাদের দেশে তুলা উৎপাদন করতে দীর্ঘ ৬ মাস সময় লাগে। যার জন্য কৃষকেরা তুলা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তবে উৎপাদনের সময় যদি কমিয়ে আনা যায় তাহলে কৃষকেরা তুলা উৎপাদনের প্রতি আগ্রহী হবে।আমাদের দেশে ১২ লক্ষ টন তুলার চাহিদা রয়েছে। সেখানে আমরা মাত্র ৩৬ হাজার টন তুলা উৎপাদন করতে পারি। চাহিদার অতিরিক্ত তুলা আমদানি করতে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে ব্যয় করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের তুলার গুণগত মানও ভালো। আশা রাখছি এই তুলার জাত বাজারে আসলে কৃষকেরা ১ মাস আগেই তুলা সংগ্রহ করতে পারবে।

পিএইচডি শিক্ষার্থী সোহানা জুঁই বলেন, আমি প্রথমেই মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। আমার পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের জন্য অনেকেই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তার জন্য আমি আমার সুপারভাইজার, কো-সুপারভাইজার, প্ল্যান্ট ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগ, পিএইচডি কমিটির সদস্য বৃন্দ, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে পিএইচডি অধ্যয়নরত বিভাগের গবেষণাগার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষোণার ব্যবহার করতে দিয়ে  পিএইচডি কাজে সহযোগিতা করার জন্য তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। তিনি আরো বলেন, আমি মোট ১০০ টি আগাম লাইন নিয়ে কাজ করেছি। সেখানে ৫টি আগাম লাইন পেয়েছি। যা দিয়ে আগাম  তুলার জাত উদ্ভাবন করা যাবে। আশা রাখছি বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড আগাম জাতের তুলা উদ্ভাবন করে আমার গবেষণা কর্মের মূল্যয়ন করবেন। যার মাধ্যমে দেশের কৃষি ও কৃষক উপকৃত হবে। তিনি তার পিএইচডি ডিগ্রিটি তার একমাত্র কন্যা এবং মা-বাবাকে উৎসর্গ করেছেন। 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments