বাকৃবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশে টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে আজ মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) ‘স্মার্ট-এস.আই.পি+: ইনোভেটিভ অ্যাপ্রোচ টু ডাউনস্ট্রিম এনার্জি ইউটিলাইজেশন ফ্রম সোলার ইরিগেশন পাম্পস (SIPs) ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের বার্ষিক কর্মশালা হোটেল লেকশোর গ্র্যান্ড, গুলশান, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল— “Advancing Sustainable Agriculture through Green Energy and Digital Innovation”।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম- এর পরিচালক প্রফেসর ড. এম হাম্মাদুর রহমানের সভাপতিত্বে বার্ষিক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে ‘টেকসই কৃষি ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিতকরণে এই প্রকল্প বাংলাদেশে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে”।
কর্মশালায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলী, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. দিয়া সানু, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেভেলপমেন্ট কাউন্সেলর ও ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন এবং বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে গবেষক দল কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা ও ডিজিটাল উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন স্মার্ট-সিপ প্লাস বাংলাদেশ প্রকল্পের ইন-কান্ট্রি লিড এবং বাকৃবির কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রফেসর ড. চয়ন কুমার সাহা। বক্তব্যে তিনি প্রকল্পটির লক্ষ্য, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, “দেশে স্থাপিত সৌর চালিত সেচ যন্ত্র থেকে সেচের পর যে অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ অব্যবহৃত থাকে, তা কৃষিভিত্তিক উৎপাদন, সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ সেচ পাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ডিজেল চালিত। এসব ডিজেলচালিত পাম্প পরিবেশ দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ভূমিকা রাখছে। এ কারণে নবায়নযোগ্য শক্তি ও জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে সেচের সময় বা মৌসুম ছাড়া এসব সৌর চালিত সেচ যন্ত্র থেকে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটির স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্প প্রধান প্রফেসর ড. লিনসি মেলভিল। তিনি প্রকল্পের সামগ্রিক কাঠামো, ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম, জিআইএসভিত্তিক ম্যাপিং টুলস, বিজনেস মডিউল এবং স্মার্ট এনার্জি সিস্টেম-এর ব্যবহার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সৌর চালিত সেচপাম্পের অব্যবহৃত বিদ্যুৎকে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার করা গেলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।”
অনুষ্ঠানটিতে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়, যেখানে সৌরচালিত সেচ পাম্পের (SIP) অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কীভাবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা যায় তা প্রদর্শন করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্পের উদ্ভাবনী ও সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের টেকসই কৃষি, গ্রামীণ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, স্মার্ট-সিপ প্লাস প্রকল্পটি যুক্তরাজ্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সংস্থা (UK Research and Innovation-UKRI)-এর অধীন যুক্তরাজ্য সরকারের আয়ারটন ফান্ড (Ayrton Fund)-এর অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটি-বিসিইউ (Birmingham City University), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন (Bright Green Energy Foundation-BGEF), ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পপুলেশন (Water & Sanitation for the Urban Population-WSUP) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (Bangladesh Agricultural Development Corporation-BADC) |



