Wednesday, July 29, 2026
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
HomeCampusবাকৃবি প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তে ভর্তি বহাল শিক্ষার্থীর

বাকৃবি প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তে ভর্তি বহাল শিক্ষার্থীর

Print Friendly, PDF & Email

বাকৃবি প্রতিনিধি : ভর্তি প্রক্রিয়ায় অসাবধানতাবশত প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় সাময়িকভাবে ভর্তি বাতিল হওয়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চন্দ্র তালুকদারের ভর্তি শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মানবিক বিবেচনায় বহাল রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-বিষয়ক শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. ফারুক আহম্মদ।

জানা যায়, চন্দ্র তালুকদার ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবখানেই মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পরে কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তির সুযোগ পান। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান চন্দ্রের বাবা একজন অটোরিকশাচালক। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বাকৃবিতে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শিক্ষার্থী চন্দ্র জানান, ভর্তি কার্যক্রমের দিন তিনি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডিনের স্বাক্ষর, হল-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং ব্যাংক হিসাব খোলাসহ প্রায় সব ধাপ সম্পন্ন করেন। তবে অসাবধানতাবশত মূল মার্কশিট, টেস্টিমোনিয়াল ও ভর্তি-সংক্রান্ত নির্ধারিত ফরম সংশ্লিষ্ট বুথে জমা না দিয়েই চলে যান। পরবর্তীতে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে এসে তিনি জানতে পারেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় তার ভর্তি বাতিল হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কৃষি গুচ্ছের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে মানবিক বিবেচনায় তার ভর্তি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করেন ছাত্রদলের বাকৃবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মেজবাউল হক মিজু। চন্দ্র তালুকদার বলেন, ‘ভর্তি বাতিলের বিষয়টি জানতে পেরে আমি খুবই ভেঙে পড়েছিলাম। পরে মিজু ভাইয়ের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হই। উপাচার্য স্যার, রেজিস্ট্রার স্যার, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার স্যারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। আজ আমি আমার রোল ও আইডি পেয়েছি। আমার ভর্তি বহাল রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

মেজবাউল হক মিজু বলেন, ‘ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে নিশ্চিতকরণ (কনফার্মেশন) বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা চালু করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘চন্দ্র তালুকদারের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তিনি ভর্তি প্রক্রিয়ার অধিকাংশ ধাপ সম্পন্ন করলেও মূল কাগজপত্র ও ডাউনলোড করা ভর্তি ফরম জমা দেননি। ফলে ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার যে চেকলিস্ট শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়, সেটিও তিনি পাননি। পরে বিষয়টি আমাদের নজরে এলে মানবিক দিক বিবেচনা করে কৃষি গুচ্ছের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। কেন্দ্র থেকে কোনো আপত্তি না থাকায় উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে তার ভর্তি বহাল রাখা হয়েছে। একটি ছোট ভুলের কারণে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হোক, আমরা সেটি চাইনি।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রমের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র জমা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এরপর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। এতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments