লিটন কুমার ঢালী , বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (LSD)। ভাইরাসজনিত এই রোগে ইতোমধ্যে অনেক গরু আক্রান্ত হয়েছে, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এলাকার ছোট-বড় খামারিরা। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় খামারি ও পশুপ্রেমীদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বেতাগী পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গরু খামারির মালিক মো. নাসির উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহের মধ্যে তার খামারের কয়েকটি গরুতে ফুলা দানা দেখা দেয়। পরে সেগুলো ঘায়ে রূপ নেয়। গরুগুলো খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। নাসির উদ্দিন বলেন, “প্রথমে বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারি এটি ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ।”
এ রোগে আক্রান্ত হলে গরুর শরীরে প্রথমে ছোট ছোট ফুলা দানা দেখা যায়, পরে তা বড় হয়ে গিয়ে ঘা সৃষ্টি করে। গরুরা খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পায়। ফলে বাজারে বিক্রির অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন খামারিরা।
পৌর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালীপাড়া গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা পুলিন বিহারী ঢালী (৮৫) জানান, তার খামারের ৬ মাস বয়সী একটি বাছুর হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীরজুড়ে কালচে ফোস্কা দেখা দেয়। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে বাছুরটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে।
বেতাগী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল মিয়া বলেন, “ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত মাছি, মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়ায়।” তিনি আরও বলেন, “রোগটি ছড়ানো রোধে আক্রান্ত গরুকে আলাদা করে রাখতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসা দিতে হবে।”
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রাণিসম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে ওষুধ সরবরাহ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগের গতি রোধে খামারিদের সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।
বরগুনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “আতঙ্কিত না হয়ে খামারিদের নিয়মিত গরুর খোঁজখবর রাখতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক খামারেই এখনো রোগ প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এক খামার থেকে অন্য খামারে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।



