নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বপ্ন দেখতে জানলে নাকি আকাশ ছোঁয়া যায়। আর এই আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন যদি হয় মাটির গন্ধে ভরা, পরিশ্রমে গড়া তবে সাফল্যও দরজায় কড়া নাড়ে।
বিদেশফেরত কৃষক জহিরুল ইসলাম যখন দেশে ফিরে হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন, ছোট্ট একটি স্পন ব্যাগ তখন তার আশার আলো হয়ে দাড়িয়েছিল। সীমিত জমি, সীমিত পুজি আর অসীম সাহস নিয়ে শুরু করেছিলেন এক নতুন পথচলা। প্রচলিত কৃষির গন্ডি থেকে বেরিয়ে বেছে নিয়েছিলেন ভিন্নধর্মী সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। ২০০ টাকা পুজি থেকে তিনি এখন আয় করেন লক্ষাধিক টাকা। শুরু করেছিলেন ২০১৭ সালে। পেয়েছিলেন মাশরুম উন্নয়ন সেন্টারের পরামর্শ। পরবর্তীতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ পান এবং প্রদর্শনী পান। প্রদর্শনীর মধ্যে ছিল ঘর নির্মাণ, স্পন, স্পন স্টেরিলাইজেশন চেম্বার, বিপননের জন্য ভ্যান ও অন্যান্য সামগ্রী। নিজ আগ্রহ ও পরিশ্রম, সরকারি সহায়তা, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ সবমিলিয়ে তার এখন স্পনের সংখ্যা ২৫০০০ এর উপরে। ২০ শতক জায়গায় তৈরী করা ঘরে তিনি ওয়েস্টার, মিল্কি এই জাতগুলো বেশি চাষ করেন। প্রতিদিন তিনি ৩০-৩৫ কেজি মাশরুম উত্তোলন করেন। শীতকালে এ সংখ্যাটি আরও বেশি থাকে। প্রতি কেজির বর্তমান বাজার মূল্য ২৫০-৩০০ টাকা। তার মাশরুমের ঘরে ৫-৬ জন শ্রমিক মাসোহারা হিসেবে কাজ করেন এই মাশরুম উৎপাদন করেই তার ৪ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের ভরণ পোষণ সহ গ্রামের অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
এই গল্প কেবল একজন মানুষের সাফল্যের কাহিনী নয়, এটি সাহস, ধৈর্য আর স্বপ্ন পূরণের এক জীবন্ত দলিল। তার এই পথ চলা প্রমাণ করে সাহস আর সহযোগিতা থাকলে ঘরের এক কোণও হতে পারে সম্ভাবনা ,মর্যাদা ও আর্থিক স্বাধীনতার চাবিকাঠি।



