বাকৃবি প্রতিনিধি: বোরো ধানের দানায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) দিনব্যাপী এক কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের মাঠ গবেষণাগারে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
“বোরো ধানের দানায় ভারী ধাতু কমানোর জন্য পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (KGF) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি(জাইকা) এর অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্পেশালিষ্ট (জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সম্পদ) ড. মনোয়ার করিম খান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আবু জোফার মো: মোসলেহ উদ্দিন, প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন সুমন ও প্রফেসর ড. মো: মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর। বাকৃবি মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কিবরীয়া’র সভাপতিত্বে এবং একই বিভাগের পিএইচডি ছাত্রী সিফাত সুলতানার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রজেক্ট কো-পি.আই প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন সুমন ।অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট পি.আই মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ও সোহেল রানা শিশির।
কৃষি জমিতে সেচ দেওয়ার আধুনিক ও সাশ্রয়ী একটি পদ্ধতি হলো 3F4D। এই নামটির প্রতিটি অক্ষর এবং সংখ্যা সেচ ব্যবস্থাপনার একটি বিশেষ কৌশলকে নির্দেশ করে। মূলত পানির অপচয় রোধ, ফসলের ফলন বাড়ানোর লক্ষ্য এবং সর্বোপরী ধানের দানায় ক্ষতিকর আর্সেনিক এর প্রভাব কমানোর জন্য এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।এই পদ্ধতিটি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়:ফলন বৃদ্ধি, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে সেচ দেওয়ার ফলে গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং ফলন বাড়ে।প্রচলিত সেচ পদ্ধতির তুলনায় এতে শ্রমিকের প্রয়োজন কম হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ অনেক কমে আসে।
প্রশিক্ষণে বক্তারা জানান, ভূগর্ভস্থ পানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ভারী ধাতু সেচের মাধ্যমে ধানের দানায় প্রবেশ করতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ‘পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি’ ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে ধানের ফলন ঠিক রেখে ক্ষতিকারক ধাতুর উপস্থিতি কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কৃষকদের ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক ধারণা দেওয়া হয়।
কর্মশালায় মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকগণ উপস্থিত থেকে কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠ পর্যায়ে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।নিরাপদ শস্য উৎপাদনে উন্নত সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার এই উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত প্রশিক্ষণে বিভিন্ন এলাকার ৬০ জন কৃষক এবং বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন এম. এস ও পিএইচডি পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।



