বাকৃবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নিরাপদ সবজি উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের এমএস শ্রেণিকক্ষে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রধান অতিথি বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এর শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রানী দাস এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি প্রকল্প। আমি সবসময় দেশীয় পণ্য ব্যবহারে উৎসাহ দিয়ে থাকি। কারণ দেশীয় পণ্য হারিয়ে গেলে আমরা বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব। তাই দেশীয় কৃষিপণ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়নে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। দেশীয় উপাদান ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক উৎপাদনে গবেষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যদি এমন কোনো কার্যকর জৈব বালাইনাশক উদ্ভাবন করা যায়, যা রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তাহলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরব বয়ে আনবে এবং দেশের কৃষিখাতও উপকৃত হবে। আমি এ প্রকল্পের সার্বিক সফলতা কামনা করছি।”
প্রকল্পের সাব-প্রকল্প ব্যবস্থাপক (এসপিএম) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার বলেন, কৃষিতে রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব জৈব বালাইনাশক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গবেষণা ও শিল্পখাতের সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, কৃষির উন্নয়নে উদ্ভাবনী গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার ফলাফল তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা কৃষকের কাছে সহজলভ্য, নির্ভুল ও ব্যয়-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে পৌঁছাতে পারে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতে টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘ডেভেলপমেন্ট অব কমার্শিয়াল বায়োপেস্টিসাইড বেইজড অন নেটিভ এনটোমোপ্যাথোজেনিক ফাঙ্গাই (ইপিএফ) ফর সেইফ ভেজিটেবল প্রোডাকশন থ্রু একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পটি হিট-এটিএফ এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বাকৃবির কীটতত্ত্ব, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব এবং উদ্ভিদ প্রজনন ও কৌলিতত্ত্ব বিভাগের ৪০জন এমএস ও পিএইচ. ডি ছাত্রছাত্রীগণ এতে অংশগ্রহন করেছে ।



